नियमित अपडेट के लिए सब्सक्राईब करें।
বিজয়লক্ষ্মী সিংহ | মহারাষ্ট্র
পুণের অস্বচ্ছ বস্তির ঝুপড়িতে বড় হওয়া নেত্রহীন চন্দ্রকান্ত, আজ সেই ব্লাইণ্ড-স্কুলের প্রিন্সিপাল যেখান থেকে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। ঠিক একই কাহিনী সন্তোষেরও। মলখমের জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় ও
তার সাথে পুণে পুলিশের হাবিলদার সন্তোষের শৈশবও অতি দারিদ্রের মধ্যেই হারিয়ে যেত যদি না সে স্বরূপবর্ধিনীর সংস্পর্শে আসতো। কেবলমাত্র এইটুকুই নয়, গ্রামের রুঢ়িবাদী পরিবেশের কারণে মেয়ে হওয়ার সব রকমের বাধা অতিক্রম করে পুণের আশেপাশের গ্রাম থেকে বিগত ১৬ বছরে ৩০০০ মেয়ে নার্স রূপে আত্মনির্ভর হয়ে সম্মানজনক জীবন অতিবাহিত করছে। পুণের পার্শ্ববর্তী এলাকাতে হওয়া ব্যাপক পরিবর্তনকে বুঝতে গেলে সেবা ভারতীর সম্বন্ধিত বহুবিধ প্রকল্প স্ব-রূপবর্ধিনী-কে বুঝতে হবে। সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক স্বর্গীয় কিশাভাঊ পটবর্ধন গরীব ও
প্রতিভাবান ছাত্রদের জীবন সুন্দর করে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন ১৯৭০সালে স্বরূপবর্ধিনীর মাধ্যমে দেখেছিলেন আজ তা ২০০-র অধিক প্রথম ও
দ্বিতীয় শ্রেণীর অফিসারের রূপে উঠে এসেছে।
এখন চন্দ্রকান্ত ভোঁসলের প্রসঙ্গে আসি। তিনি আজও সেইসব অতীতকে ভুলতে পারেননি, অন্ধ হওয়ার কারণে তিনি না তে স্বরূপবর্ধিনীর শিক্ষাকেন্দ্রে যেতে পারতেন আর না কোন স্কুলে। তখন তার পড়াশোনা চালু রাখতে স্বর্গীয় কিশাভাঊয়ের প্রেরণাতে নিঃশুল্ক কোচিং সেণ্টারে পড়তে আসা একাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র বিশ্বাস ফাঁকা সময়ে ভীম নগরের বস্তিতে এসে পড়াতে শুরু করে এবং কয়েক বছর ধরে পড়াতে থাকে। বিশ্বাসের প্রচেষ্টার ফলে চন্দ্রকান্ত হাইস্কুলে ৭০শতাংশ নিয়ে পাশ করে দেখায়। নিজের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়া চলাকালীনও বিশ্বাস চন্দ্রকান্তকে পড়াতে থাকে। চন্দ্রকান্ত পরবর্তীকালে বিএ, এমএ এবং বিএড করার পর সেই অন্ধ স্কুলেরই প্রিন্সিপাল হন যেখানে তার ছাত্রজীবন কেটেছে।
ঠিক তেমনই সন্তোষের জীবনেও পরিবর্তন আসে। বস্তি এলাকাতে বড় হওয়া সন্তোষ ছোট থেকেই চঞ্চল প্রকৃতির ছিল, পড়াশোনার বদলে খেলাতেই মনটা পড়ে থাকতো। একটা ক্রীড়া শিবিরের সময় স্বরূপবর্ধিনীর কার্যকর্তাদের নজর তার উপর পড়ে। তার মধ্যে ভালো খেলোয়াড় হওয়ার সব রকম গুণ লক্ষ্য করেন। কার্যকর্তারা তাকে স্পোর্ট্স অ্যাকাডেমিতে সমস্ত খরচ দিয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। সন্তোষ বর্তমানে সর্বভারতীয় মলখম খেলোয়াড় আর তার সাথে মহারাষ্ট্র পুলিশে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার বিভাগের মান বৃদ্ধি করে চলেছে। এইটুকু তো যৎসামান্য, চন্দ্রকান্ত, বিশ্বাস, সন্তোষের মত অজস্র উদাহরণ রয়েছে যারা স্বরূপবর্ধিনীর সংস্পর্শে এসে সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
‘স্ব’-রূপবর্ধিনীর উপাধ্যক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় সেবা ভারতীর কেন্দ্রীয় টোলির সদস্য শ্রী শিরীষ পটবর্ধন বলেন যে, ১৯৭৯সালে এই প্রকল্প পুণের বস্তি এলাকায় বসবাসকারী প্রতিভাবান বালকদের বহুমুখী উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এটি অস্তিত্বে আসে। খুব ছোট আকারে এর কাজ শুরু হলেও আজ এই প্রকল্প বহুমুখী বিস্তার লাভ করেছে। শিরীষজীর মতে বর্ধিনীর মাধ্যমে রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম শুল্কে চালানো কোচিং সেণ্টারে পড়ে ২০০-র অধিক গরীব ছাত্র আজ প্রথম ও
দ্বিতীয় শ্রেণীর অফিসার হয়েছে।
মোবাইল ল্যাবরেটারী- যা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাচ্চাদের বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রয়োগ দেখিয়ে তাদের মনে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরী করে চলেছে। বিগত ১৭বছরে এই প্রয়োগশালার কারণে প্রায় একশোরও বেশি গ্রামের হাজারো বাচ্চার বিজ্ঞানের প্রতি দৃষ্টি খুলেছে। এছাড়াও মহিলা স্বনির্ভর কেন্দ্র,
কাউন্সিলিং সেণ্টার, মন্তেসরী স্কুল আর স্কিল ডেভলপমেণ্টের নানা প্রকারের প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজ নিরন্তর চলছে।
সম্পর্ক সূত্র : শিরীষ পটবর্ধন
সম্পর্ক নম্বর :
9822675765
नियमित अपडेट के लिए सब्सक्राईब करें।